ইউপিএস/আইপিএস কেনার সময় আমরা সাধারণত কতক্ষণ ব্যাকআপ পাব, তা নিয়েই বেশি চিন্তা করি। কিন্তু এই ব্যাকআপ যে ব্যাটারিটি দিচ্ছে, তার মান বা প্রযুক্তি নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবি না। অথচ একটি ইউপিএস/আইপিএস -এর প্রাণ হলো এর ব্যাটারি।
বাজারে বর্তমানে দুই ধরণের ব্যাটারি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়ঃ
- লিড এসিড (Lead Acid) ব্যাটারি
- লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LiFePO4) ব্যাটারি।
দাম বা আকারের পার্থক্য তো আছেই, কিন্তু পারফরম্যান্সের বিচারে কোনটি এগিয়ে? আজকের ব্লগে আমরা এই দুই প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ করব।
| বৈশিষ্ট্য | লিড এসিড ব্যাটারি (পুরাতন) | LiFePO4 ব্যাটারি (আধুনিক) |
| লাইফস্প্যান | ১-১.৫ বছর | ৫-১০ বছর |
| ওজন | অনেক ভারী | হালকা ও কমপ্যাক্ট |
| মেইনটেন্যান্স | পানি দিতে হয় / যত্ন নিতে হয় | মেইনটেন্যান্স ফ্রি |
| চার্জিং সময় | অনেক ধীর গতি | অত্যন্ত দ্রুত (Fast Charging) |
| ব্যবহারযোগ্য ক্ষমতা | ৫০% এর বেশি ডিসচার্জে ক্ষতি | ১০০% পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য |
স্থায়িত্ব বা লাইফ সাইকেল (Life Cycle)
ব্যাটারি কতদিন টিকবে তা মাপা হয় ‘সাইকেল’ দিয়ে। একবার ফুল চার্জ থেকে ডিসচার্জ হওয়াকে এক সাইকেল বলে।
- লিড এসিডঃ সাধারণত ৩০০ থেকে ৫০০ সাইকেল পর্যন্ত টেকে। অর্থাৎ, ১ থেকে ১.৫ বছর পরেই এর ব্যাকআপ টাইম কমে অর্ধেক হয়ে যায় বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।
- লিথিয়ামঃ আমাদের ব্যবহৃত উন্নতমানের LiFePO4 ব্যাটারিতে ২০০০ থেকে ৫০০০+ সাইকেল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, একবার কিনলে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
সিদ্ধান্তঃ আপনি কি প্রতি বছর ব্যাটারি বদলাতে চান, নাকি একবার কিনে ১০ বছর নিশ্চিন্ত থাকতে চান? উত্তরটি লিথিয়ামের পক্ষেই যায়।
ওজন এবং বহনযোগ্যতাঃ
- লিড এসিডঃ এই ব্যাটারিগুলো ভীষণ ভারী এবং আকারে বড় হয়। এটি টেবিলের সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া কষ্টকর।
- লিথিয়ামঃ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এই ব্যাটারিগুলো ওজনে খুব হালকা এবং আকারে ছোট (Compact) হয়। এটি দেখতে স্মার্ট এবং সহজেই ব্যাগে করে বহন করা যায়।
কার্যক্ষমতা বা ডেপথ অফ ডিসচার্জঃ
- লিড এসিডঃ একটি লিড এসিড ব্যাটারির চার্জ যখন ৫০% এর নিচে নেমে যায়, তখন এর ভোল্টেজ দ্রুত ড্রপ করে। অর্থাৎ, আপনি ব্যাটারির পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না। ৫০% এর বেশি ডিসচার্জ করলে ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
- লিথিয়ামঃ এর DOD (Depth of Discharge) প্রায় ৯০-১০০%। অর্থাৎ, আপনি ব্যাটারির চার্জ একদম শেষ হওয়া পর্যন্ত সমান ভোল্টেজ এবং ব্যাকআপ পাবেন। এটি ব্যাটারির স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না।
চার্জিং স্পিডঃ লোডশেডিং-এর দিনে বিদ্যুৎ বেশিক্ষণ থাকে না। তাই ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হওয়া জরুরি।
- লিড এসিডঃ চার্জ হতে দীর্ঘ সময় (৬-৮ ঘণ্টা) নেয়।
- লিথিয়ামঃ এটি ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে। মাত্র ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই এটি ফুল চার্জ হতে সক্ষম (উপযুক্ত চার্জার সাপেক্ষে)। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও আপনি ব্যাকআপ পাবেন।
নিরাপত্তাঃ
- লিড এসিডঃ এতে এসিড লিক হওয়ার বা গ্যাস নির্গত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ঘরের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- লিথিয়ামঃ লিথিয়াম পরিবারের মধ্যে ‘Iron Phosphate’ কেমিস্ট্রি সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি নেই বললেই চলে এবং এটি পরিবেশবান্ধব।
খরচ কি আসলেই বেশি?
অনেকে মনে করেন লিথিয়াম ব্যাটারির দাম বেশি। হ্যাঁ, কেনার সময় এর দাম লিড এসিডের চেয়ে একটু বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু হিসাবটা দেখুন—
আপনি ১০ বছরে ৫ বার লিড এসিড ব্যাটারি কিনবেন, নাকি ১০ বছরে ১ বার লিথিয়াম ব্যাটারি কিনবেন?
দীর্ঘমেয়াদে লিথিয়াম ব্যাটারিই আপনার পকেটের টাকা বাঁচায় এবং ভোগান্তি কমায়।
শেষ কথাঃ আপনি যদি সস্তা এবং স্বল্পমেয়াদী সমাধান খোঁজেন, তবে লিড এসিড বেছে নিতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি চান—
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ
- স্মার্ট ও হালকা ডিভাইস
- এবং আগামী ৫-১০ বছরের জন্য ব্যাটারি কেনার টেনশন থেকে মুক্তি
তবে নিঃসন্দেহে LiFePO4 ব্যাটারিযুক্ত ইউপিএস/আইপিএস আপনার জন্য সেরা নির্বাচন।
আমাদের মিনি আইপিএস-এ আমরা ব্যবহার করি এবং পরামর্শ দেই Grade-A প্রিজম্যাটিক সেল, যা আপনাকে দেবে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের নিশ্চয়তা।